Tuesday, November 24, 2015

চিয়াংগয়চিয়ন - প্রথম দর্শন

Cheonggyecheon বাংলা করা দুঃসাধ্য, তবু আমি যেটা উচ্চারণ করি, সেটা লিখলে চিয়াংগয়চিয়ন সিওলে কোথায় ঘুরতে যাব কম পয়সায় খুঁজতে বসলে এটা পেলাম এর আগে সিওল টাওয়ার ঘুরে খুব আশাহত হয়েছি খুব একটা পোষায়নি তাই এখানে যাব ঠিক করলাম যদিও আমার থেকে দেবপ্রিয়া মানে আমার স্ত্রীর ইচ্ছাটা একটু বেশি কারণ? সেটা বলতে হলে একটু গৌরচন্দ্রিকার দরকার আছে

চিয়াংগয়চিয়ন আসলে একটা নালা ছিল এককালে, যখন দক্ষিণ কোরিয়া ঠিক উন্নত হয়ে ওঠেনি, অনেকটা আমাদের টালি নালার ( বা উত্তর কোলকাতার চিৎপুর খাল) মত তখন একে বলত গেয়চিয়ন, সারা শহরের নোংরা জল জমত, ধোপার কাপড় কাচত (নোংরা জলে কিনা জানিনা, তাই লেখা আছে), এইসব আরকি আসেপাসে গুছিয়ে বসতি ছিল যার বেসিরভাগটাই নিম্নবিত্ত এরপর দক্ষিণ কোরিয়া উন্নতি করছে, সিওল অন্যতম উন্নত শহর, তার মধ্যে এসব নালা থাকতে নেই বলে সিওলের মেয়র ২০০৩ না কবে একটা ঠিক করল এটা নতুন করে সাজাতে হবে ব্যাস, আসেপাসের বসতি উড়িয়ে (তাদের কি হয়েছিল জানিনা, কোনো বিক্ষোভ হয়েছিলো কি কলকাতার মত!!), নালার জল পাল্টে ফেলা হল হান নদী থেকে জল পাম্প করে করে বছর ধরে পুরো জল পাল্টে ফেলেছিল, সাথে সাথেই নালার দুপাশ নতুন করে সাজিয়ে ২০০৫এ এটা সাধারন দর্শকের জন্য খুলে দেওয়া হয়

একটু উইকিলব্ধ জ্ঞান লিখে ফেলা যাক আমার এই ব্লগ কেউ পড়বে সে আশা করিনা কিন্তু যদি কেউ পড়েও ফেলে, তারপর আবার যেন নেট খুলে খুঁজতে বসতে না হয় তাই লিখে ফেলি চিয়াংগয়চিয়ন একটা খাল, বা নালা যা বলব তাই তবে লম্বায় অনেকখানি, ১০. কিমি হান থেকে শুরু করে শহরের মাঝখান দিয়ে গিয়ে আবার হানেই মিশেছে শুরুর সময় চওড়ায় আমাদের টালিনালার মত হলেও শেষে অনেকটাই মোটা আর জল স্বচ্ছ বললে কম বলা হয় এই রিস্টোরেশন প্রজেক্ট হওয়ার সময় নাকি ভালই ঝামেলা হয়েছিল প্রায় ২৮০মিলিয়ন ডলার খরচ করে একটা জাস্ট নালার সৌন্দর্যায়ন নিয়ে ঝামেলা হওয়াই স্বাভাবিক, তার উপর কি'সব ঐতিহাসিক অথেন্টিসিটি নিয়েও প্রশ্ন ছিল সে থাক, আঅমরা কোরিয়ান হিস্ট্রি জানিই বা কি আর ওরা পয়সা কোথায় খরচ করছে তা নিয়ে মাথা ব্যাথাও নেই কয়েক মাস বা বছর থাকব, ঘুরব, চলে যাব আর বেশি ডিটেলসে না গিয়ে ঘোরা যাক

ভারতের সাথেও চিয়াংগয়চিয়ন-এর কানেকশন আছে গ্যাংস্টার সিনেমার একটা গানের কিছু দৃশ্য নাকি এখানে শ্যুট হয়েছিল কিন্তু যথারীতি, হিন্দী সিনেমা, তায় ইমরান হাসমি, আমি দেখিনি এখানে অনেকদিন থাকা এক বাঙালী বন্ধুর থেকে এটা জানলাম দক্ষিণ কোরিয়ার মত জায়গায় থেকে এইটুকু দেশের সূত্র পেলেও বিশাল মনে হবে কারণ এখানের সাথে ভারতের যোগসূত্র খুবই কম সে যাই হোক, ভাবলাম ঘুরেই আসি। আমার স্ত্রী আর্কিটেকচারের ছাত্রী তায় regeneration, conservation নিয়ে কাজ করতে চায়, ফলে তার কাছে এটার গুরুত্ব বুঝতে পেরে এবং ভারতীয় কানেকশনের কথা মাথায় রেখে এখানে যাওয়াই স্থির করলাম

আমরা থাকি ইন্চেয়নে। এশিয়ান গেমসের পর নামটা অনেকেরই শোনা। আর উল্লেখযোগ্য হল দক্ষিণ কোরিয়ার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট বলতে এটাই ( আরেকটা আছে, না থাকার মতই)। এখান থেকে সিওল যেতে সবথেকে ভালো উপায় সাবওয়ে। সাবওয়েরও অনেক গল্প আছে, সেসব নাহয় পরেই বলব। ঠিক হল রবিবার দুপুর-দুপুর নাগাদ একটু খেয়ে বেরব।

শনিবার রাতে লিভারপুলের খেলা দেখলাম, তারপর আর রবিবার সকালে ওঠা সম্ভব হলনা। কখন যেন উঠলাম, স্নান-খাওয়া সেরে বেরোলাম প্রায় ৩টেয়। প্রথমে যেতে হবে আমাদের কাছের সাবওয়ে স্টেশন জুয়ানে। সেখানে পৌঁছে সিওল সিটি হলের ট্রেন ধরলাম।

চিয়াংগয়চিয়ন-এর (বারবার এত্ত বড় নাম লেখা যায়না। এরপর থেকে একে নালাই বলব) যে কোনো জায়্গা থেকেই ঘোরা শুরু করা যায়, কিন্তু আমরা দেখলাম সিটি হল স্টেশন আমাদের সাবওয়ে লাইনেই থাকবে, তার উপর এটা এর একটা শুরুর পয়েন্ট। ফলে সিটি হলে নামাই ঠিক করলাম। অক্টোবর মাস। ভারতে দুর্গা পূজোর আগের সময়, খুব একটা শীত এখানেও পড়ার কথা নয়। তবু একটা করে হালকা জ্যাকেট নিয়েই বেরলাম। সিটি হল স্টেশন পৌঁছতে লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। ট্রেন থেকে নেমে স্টেশনের মধ্যেই কেমন একটা কেঁপে গেলাম। ফোনের অ্যাপ জানালো বাইরের টেম্পারেচার ১০ ডিগ্রী সাথে বিশাল হাওয়া আর অল্প বৃষ্টি।

স্টেশন থেকে বেরলাম। সিটি হল জায়গাটা সিওলের বেশ বিখ্যাত জায়গা। এখানে বেশ কিছু ভালো হোটেল, তারপর অফিস, প্লাজা ইত্যাদি আছে। সিটি হল স্টেশনে নেমে একটু এগিয়ে গেলেই নাকি চিয়াংগয়চিয়ন শুরু। এখানে ভাষা বুঝিনা এখনো, ইংরাজী এরা ৯০% লোক বোঝেনা, আমি বেশ বাংলাতেই দোকান বাজার করি। স্টেশনে নেমে গুগলম্যাপ ভরসা করে এগিয়ে চললাম।

একটু পরই দেখলাম একটা বিশাল বড় আইসক্রীমের স্কুপের মত কি একটা। সেটা কি জিনিস সেইদিন বুঝিনি (পরে বুঝেছি, ধৈর্য্য থাকলে লিখব)। সামনেই একটা খোলা মঞ্চে ট্র্যাডিশনাল কোরিয়ান নাচের অনুষ্ঠান হচ্ছে। লোকে একইধরনের রেইনকোট পড়ে লাইন দিয়ে বসে দেখছে। আমরাও একটু দাঁড়িয়ে দেখলাম, ভাষা না বুঝলেও এরকম লোকগীতির রকমের সুরগুলো খুব কাছের লাগে, শুনতেও খারাপ লাগেনা, আর সাথের নাচটা অদ্ভুত রকমের। একজন প্রৌঢ় গায়ক গাইছিলেন। একটা ছবি থাক তার। আমাদের মত বেশ কিছু ফরেনারও দেখলাম এখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমেরিকা-টামেরিকা যাইনি, সেখানে কি হয় বলতে পারবনা তবে সিওল-ইন্চেয়নে ফরেনাররা নিজেদের দেখলে বেশ মিস্টি করে হাসে, আমরাও শিখে গেছি সেটা। বোধহয় ইংরাজী জানা লোক দেখে হাসে, সে যাই হোক, বড্ড বেশি বেলাইনের কথা বলছি।

গান ও নাচ



গান ও গায়ক


তারপর একটা ছোট্ট টানেলের মধ্যে দিয়ে নালার পাশে ঢুকতে হল। আসে-পাসের রাস্তা অনেক উঁচুতে, সেখান দিয়ে বাস-অন্যান্য গাড়ি চলছে। আর নালার পাশ দিয়ে হাঁটার রাস্তা, আর নানারকম সাজানো।টানেল থেকে বেড়িয়েই প্রথমে একটা ঝরণা। জানিনা খুব ভালো কিনা, তবে আমার খারাপ লাগলনা। স্বচ্ছ জলের ঝরণা, সামনে ড্রাগণের স্কাল্পচার, বেশ ভালো। তখনো অন্ধকার হয়নি, নাহলে এটা লাইটনিং ফাউন্টেন, তো ছবি নিয়ে এগিয়ে চললাম। আরো অনেককিছু কাগজের বাননো নক্সা ঝুলছে। কখনো ড্রগন, কখনো সাপ, কখনো পেঙ্গুইন বা ডলফিন। এখানে নাকি নভেম্বরে লন্ঠন উৎসব হয়। তখন আসব ভাবছি আবার। নালার দুপাশ দিয়ে রাস্তা, কিছু বাদে বাদে এপার ওপার হওয়ার জন্য ব্রিজ। বা জলের উপর দিয়ে এপার-ওপার করার জন্য পাথর রয়েছে। বাচ্ছা ছানাগুলো বেশ জলে হাত-পা ডুবিয়ে বসেও পড়েছে। ব্রিজের তলাগুলো কোলকাতার মত এখানেও কপোত-কপোতিদের প্রেম করার স্থান (বৃষ্টির জলের ভয় নেই)।
ঝরণার সামনে

ঝরণার সামনে
ভাঙা ছাতা- কি মানে !! কে জানে!!

ব্রিজ

হাতি - এরাই পরে পাল্টে যাবে
ব্রিজ
একটু হেঁটে বিরক্তই লাগল যে সবই কেমন সাজানো-গোছানো, মানে খুবই মেকি। জলের তলায় আলো, জলে কোনো মাঝ বা পোকা নেই, নালার পাশে কংক্রিটে সাজানো রাস্তা, রাস্তার পাসে প্ল্যান মাফিক গাছ বসানো, কোনোটার ডাল একটু বেড়ে গেলেও ছেঁটে দিয়েছে বোঝা যাচ্ছে। দেওয়ালে মার্বেলের গ্রাফিটি। বড্ড বেশিই সাজানো, পাখি আছে কিছু, কিন্তু না পোকা, না মাছ, তাহলে আর কি ইকলজি মেনেছে এরা। এইসবই আলোচনা করতে করতে এগোলাম দুজনে।কোনো ব্রিজের তলায় ছবির প্রদর্শনী, এইসব দেখতে দেখতে এগোলাম। কিছু হাতি-জিরাফের স্ট্রাকচার দেখলাম। কিছুই বুঝলাম না কেন রেখেছে। ধুর বেকার লাগল।

তাহলে লিখছি কেন? এরপরই আসল জিনিস। আমরা বাঙালী, ছোটবেলা থেকে কয়েকটা জিনিস ভালোবাসতে শিখেছি, ফুটবল, বই, ঘোরা আর খাওয়া। দুপুরে বিশেষ কিছু খাইনি, ক্ষিদে পেয়েছে গুছিয়ে, তার মধ্যে মনও ভরেনি তো দেবপ্রিয়া বলল, "চল কাটিয়ে দিই, উপরের রাস্তায় বেশ কফির দোকান দেখতে পাচ্ছি।" আমিও মনে মনে তাই ভাবছিলাম।

মার্বেলের দেওয়ালে মাঝে মাঝেই উপরে ওঠার সিঁড়ি আছে। সেই বেয়ে উপরে এলাম। লাইন দিয়ে বড় বড় সব দোকান। কোরিয়ায় কফি একটা শিল্পর পর্যায় চলে গেছে, প্রচুর কফির চেইন, এক একটা কফির দোকানে এক এক রকম টেস্ট। এখানে আমাদের এক প্রিয় কফির চেইন এডিয়া কফি। তাতে আবার একটা কার্ড দেয়, ১০টা খেলে একটা ফ্রী। উপরে উঠেই এডিয়ার জন্য এদিক ওদিক ঘুরলাম, পেলামনা। দুজনের মাথা গরম হব হব করছে।

এবার নালার প্রায় পার্পেন্ডিকুলার এক রাস্তায় এমনিই হাঁটতে হাঁটতে ঢুকে পড়লাম। লাইন দিয়ে দোকান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কেউ ইংরাজি জানেনা। সিওলের স্ট্রীটফুড বিখ্যাত। ঠিক করলাম তাই খাব, কিন্তু কি খাব? কিছুই বুঝিনা। প্রথম দোকানেই দেখলাম এক প্রৌঢ়া ভাজা অনেক কিছু বেচছে, আর অনেকেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাচ্ছে। দুরে দাঁড়িয়ে দুজনে ঠিক করলাম একটা আইটেম। প্রায় দেড় ফুট লম্বা টুথপিকের মত বাঁশের কাঠি ( কি বলে জানিনা) তাতে মাংস-সেলেরি এসব ভাজা গাঁথা আর পুড়িয়ে পুড়িয়ে রাখছে সশ মাখিয়ে। দেখে বেশ লাগল, জিভে জল-টল এসে একটা কিনে ফেললাম। অসাধারণ খেতে, সেটা উনার ছবি একটা লাগাছি, মুখ দেখেই বুঝে যাবেন। সাথে কাগজের কাপে একটা ঝোল মত। এটা ফ্রি। কোরিয়ানগুলো দেখছি ২-৩ কাপ করে সেই স্যুপ বা জল  যাই বলুন খেয়ে যাচ্ছে। আমরা টেস্ট করব বলে একটা কাপ নিলুম। চুমুক দিয়েই শুঁটকির স্যুপ!  আমার ঘটি সত্তা জেগে উঠল, খাবই না। তো সেই স্যুপ আমার বাঙাল বৌ হাপুস-হুপুস করে খেল। একটা কাঠি দুজনে মিলে খাওয়ার পর তেনার ইচ্ছা আরো খাবো একই জিনিস। এবার আমি বোঝালাম, "দ্যাখ, সামনে কত দোকান, এক জিনিস খেয়ে পেট ভরালে হবে?" তিনি বুঝলেন। যেটুকু কোরিয়ান জানি তাতে দাম জিজ্ঞাসা করলাম, "ওলমাএয়ো?" বলে কিনা দেড়-হাজার ইয়ন। বেশ সস্তা, এক হাজার ইয়ন মানে এক ডলারের কিছু কম। এখানে এক ডলারের কম কিছু পাওয়াই যায়না। সেখানে এটা বেশ সস্তা।

দুজনেরই মুখ-জুভ এবার খাব খাব করছে। এরপর যেটা খেলাম সেটা ভাজাভুজি টাইপ। এক মহিলার স্টল আবার। অনেক রকম ভাজাভুজি সামনে। পিছনে লেখা ৩ডলার। বুঝলামনা, কোনটা ৩। তো সাহস করে বললাম, "হানা" মানে একটা। তো উনি করলেন কি, পাঁচ খানা আলাদা আলাদা চপ বলব কি? অনেকটা বাটার্ফ্রাই মত জিনিস, দুটো আলুর, দুটো চিংড়ির আর একটা মনে হল স্কুইডের চপ  তুললেন, কাঁচি দিয়ে ঘ্যাচঘ্যাচ করে কাটলেন, কেতে একটা প্লেটে করে দিলেন অনেকটা ঝোল ঢেলে। ঝোলটা এখানকার টিপিক্যাল কোরিয়ান রাইস কেকের লাল ঝোল। এখানেও সাথে শুঁটকির স্যুপ আছে। বৌ হেব্বি খুশি। কয়েকটা চপে কামড় দেওয়ার পড় ঝাল লেগে আমিও শুঁটকির স্যুপ খেয়ে ফেললাম এককাপ। স্যুপ নেহাৎ খারাপ লাগলনা। আর চপ? অসাধারন জিনিস। এখন বুঝছি কেন সিওলের স্ট্রীটফুড বিখ্যাত। ভাবছি কোরিয়ান খাবার নিয়ে একটা এপিসোড লিখব। এরপর পেট ভর্তি। খেলামনা আর কিছু একটা স্টল থেকে মোজা কিনলাম। কোরিয়ানদের মোজার টাইপ ও একটা শিল্প, একটা ছবি রেখে গেলাম, আমাদের দুজনের কেনা মোজার।

আসল যে উদ্দেশ্যে উপরে ওঠা সেই কফির খোঁজ পড়ল আবার। এক গলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ  একটা দোকান দেখতে পেলাম। ছোট্ট ঘুপ্চি দোকান, কিন্তু কফির মেনু ইংলিশে লেখা। এখানে আমরা এটা দিয়েই দোকানের লেভেল বিচার করি প্রথমে, ইংলিশে লেখা মানে অন্যদের থেকে ভালো। দোকানে এক মধ্যবয়স্কা মহিলা। দেখে বুঝলাম এটা টিপিকাল কফির দোকান। অনেক কাঁচের বয়ামে কফি রাখা, কোনোটায় লেখা ইজিপ্ট, কোনোটায় ইথিওপিয়া-ব্রাজিল-নাইজেরিয়া আরো কতকিছু। জিজ্ঞাসা করলেন যে কোন দেশের খাব, একজন ইথিওপিয়ার ব্ল্যাক কফি নিলাম। উনি সামনে বসে ফিল্টার-টিল্টার করে কফি বানালেন। উফ্ফ!! যা-তা ভালো খেতে!! আবার ওদিকে গেলে ওখানেই কফি খাব, দাম যদিও একটু বেশির দিকে, তবু।

কফি-টফি খেয়ে দুজন নিজেদের জিজ্ঞাসা করলাম, "আবার কি দরকার আছে ঘোরার??" দেখলাম দুজনেরই এবার ফেরার ইচ্ছা। তো ওখান থেকে আর একটু হঁএটে এসে জোগ্নো৫গা স্টেশনে এসে ফেরার সাবওয়ে ধরলাম।

এবার আসল প্রশ্ন নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আসছে, "ব্যাটা, ঘোরার কথা তো একটুখানি, তাও পোষায়নি। তাহলে ঘটা করে ব্লগ লিখে আমাদের পড়ালি কেন?" হুম্ম, একদম জেনুইন প্রশ্ন। তবে এরও কারণ আছে। আমি যেটা লিখলাম উপরে সেটা অক্টোবর মাসে। আর ওখানেই লিখেছি নভেম্বরে এখানে লন্ঠন ফেস্ট, তখনও এখানে এসেছি। তখনকার অভিজ্ঞতা একদম আলাদা। সেটাও লিখব এরপর। এটা শুধু ইন্ট্রোডাকশন হল। পড়তে থাকুন, এরপর আসবে "লন্ঠনে চিয়াংগয়চিয়ন"।









কোরিয়ান স্ট্রীটফুড

কোরিয়ান স্ট্রীটফুড

কোরিয়ান মোজা


বিঃদ্রঃ আমাদের কোনো ক্যামেরা নেই সাথে, মোবাইলও এলজির। তাই ছবির কোয়ালিটির কথা বলে আমাদের লজ্জা দেবেননা।